বাংলা সাহিত্যের নোবেলবিজয়ী সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি জীবনমুখী ছোটোগল্প হলো 'তোতা-কাহিনি'। এ গল্পে তোতা পাখির শিক্ষা দানের মাধ্যমে সমাজে প্রচলিত জোরপূর্বক শিক্ষার কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে। সেই সাথে গল্পটিতে ফুটে উঠেছে নিন্দুকদের সমালোচনার গুরুত্ব। গল্পে নিন্দুকদের কর্মকান্ড ও ভূমিকাকে আমি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখি।
'তোতা-কাহিনি' গল্পে রাজা একটি তোতা পাখিকে বন থেকে নিয়ে এসে খাঁচায় বন্দি করেন। তিনি পাখির জন্য শিক্ষা প্রদানের বিরাট আয়োজন করেন। পাখির জন্য নির্মিত সোনার খাঁচা দেখতে দেশ-বিদেশের লোক ছুটে আসে। পন্ডিতেরা পাখিকে বিদ্যা শেখাতে বসে, লিপিকরেরা পুথির নকল করতে থাকে, খাঁচাটি ঝাড়া-মোছা ও পালিশ করার জন্য প্রচুর জনবল নিয়োগ করা হয়। সবাই খাঁচা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কিন্তু খাঁচার ভিতরের তোতা পাখির কথা কেউ ভাবে না। তোতা পাখির কথা চিন্তা করে শুধু নিন্দুকেরা। তারা বলে যে, খাঁচার উন্নতি হচ্ছে, তবে পাখির উন্নতি হওয়া নিয়ে তারা সন্দিহান।
প্রতিবারে যখন রাজা তাঁর ভাগনেদের কথা বিশ্বাস করেছে, তখনই নিন্দুকেরা রাজাকে চোখে আঙুল দিয়ে তাঁর ভুল দেখিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। রাজা শিক্ষাশালায় গিয়ে পাখিকে না দেখে শুধু খাঁচা দেখেই চলে আসছিলেন, সেসময়ও ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে থাকা নিন্দুক রাজাকে পাখিটিকে দেখার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ফলে রাজার বোধোদয় হয় এবং তিনি পাখিটিকে দেখতে চান। কিন্তু রাজার ভাগনেসহ শিক্ষাশালার দায়িত্বে থাকা অন্যান্যরা এবারও রাজাকে ভুল বুঝিয়ে পাখিকে শেখানোর কায়দাটি দেখায়। কিন্তু এ কায়দায় শিখতে গিয়ে পাখির যে মরমর অবস্থা, তা রাজার চোখে পড়ে না। উলটো রাজা কানমলা সর্দারকে নিন্দুকের কান মলে দিতে বলেন।
নিন্দুকের সদুপদেশে কান না দিয়ে তাকে শাস্তি দেওয়ার ফল ভোগ করতে হয় রাজাকে। যে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি এত টাকাপয়সা খরচ করে মহা আয়োজন করলেন, শিক্ষার ভার নিতে না পেরে পাখিটি অবশেষে মারা যায়। মারা যাওয়ার সংবাদটি সবাই জানতে পারে নিন্দুকের মাধ্যমে। এক্ষেত্রেও নিন্দুক রাজা ও তাঁর রাজ্যের কথা ভেবেই সংবাদটি ছড়িয়ে দেয়।
পুরো গল্পজুড়ে নিন্দুকদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তারা সত্য প্রচারের মাধ্যমে এবং রাজার কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করার মাধ্যমে রাজাকে তোতাপাখির শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সাহায্যই করতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজা নিন্দুকদেরকে বিশ্বাস না করে নিজের ভাগনেদের বিশ্বাস করে। গল্পটির মতো আমাদের বর্তমান সমাজেও নিন্দুক ও সমালোচনাকারীদের সমালোচনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, 'তোতা-কাহিনি' গল্পের নিন্দুকেরা আসলে রাজার ভালোর জন্যই নিন্দা করেছে। তাই এ বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখি।
Related Question
View Allশেষ পর্যন্ত পাখিটি মারা গিয়েছিল।
রাজার নির্দেশে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সোনার খাঁচা বানিয়ে তাতে পাখিকে বন্দি করে রাখা হয়। তারপর তাকে শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়। পণ্ডিতেরা আরও বেশি বেশি পুঁথি লিখিয়ে নেয়। লিপিকররা মোটা অঙ্কের পুরস্কার নিয়ে চলে যায়। স্যাকরা, কামার, মন্ত্রী সবাই লাভবান হয়। । আর শিক্ষা দেওয়ার জন্য পাখির মুখে ঠেসে দেওয়া হয় পুঁথি। এভাবেই ধীরে ধীরে পাখিটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পাখিকে মুক্ত বাতাসে উড়তে না দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে খাঁচায় রেখে অত্যাচার করার কারণেই পাখিটির শেষ পর্যন্ত মৃত্যু ঘটে।
উদ্দীপকের পাখির সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের তোতা পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করতে চায়। সেই অধিকার সবারই আছে। তাই কারও, স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
উদ্দীপকের চিত্রে দুটি, তোতা পাখিকে দেখা যায়। এগুলো বন্দি অবস্থায় নেই, এগুলো মুক্ত। এগুলোকে শিক্ষা দেওয়ার মতো কোনো দৃশ্য চিত্রে দেখা যায় না। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে শিক্ষা দেওয়ার নামে অত্যাচার করা হয়েছে। সেখানে মুক্ত আকাশের পাখিকে ধরে এনে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় মানুষ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের সঙ্গে 'তোতা-কাহিনি' গল্পের পাখির পরিণতির বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের চিত্রটি 'তোতা-কাহিনি' গল্পের মূলভাবকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত করে।
সমাজে নিয়মের চেয়ে অনিয়ম বেশি। এই অনিয়মকেই আমরা আজকাল নিয়ম বানিয়ে ফেলেছি। অনিয়ম দিয়েই চলছে সমাজ, সভ্যতা। আমাদের উচিত সমাজ থেকে এই অনিয়মগুলো নির্মূল করা।
উদ্দীপকের চিত্রে একপাশে খাঁচা এবং তার পাশে উন্মুক্ত পাখি দেখা যায়। এখানে পাখির স্বাধীনভাবে থাকার এবং মুক্তজীবনের ইঙ্গিত রয়েছে। 'তোতা-কাহিনি' গল্পে তোতা পাখিকে শিক্ষা দেওয়ার নাম করে অনেক নির্যাতন করা হয়। পাখিটির মৃত্যু হয়। আসলে পাখির শিক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পাখির শিক্ষার নামে অন্যদের স্বার্থ হাসিলের চিত্র ফুটে উঠেছে গল্পে। মূলত গল্পে অন্যের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে স্বার্থ হাসিলের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
স্বাধীনতা সকলের জন্মগত অধিকার। উদ্দীপকে পাখির মুক্ত ও স্বাধীনভাবে থাকার মাধ্যমে সার্বিক স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে। অন্যদিকে 'তোতা-কাহিনি' গল্পে পাখির পরাধীনতার কথা ফুটে উঠেছে। উভয়, জায়গায় মূলত ফুটে উঠেছে যে, প্রকৃতির একটা স্বাভাবিক নিয়ম রয়েছে। তা রোধ করলে অনর্থ হয়, যা আলোচ্য গল্পের পাখির পরিণতির মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। পাখির পরিণতি প্রকাশ করে স্বাধীনতার অধিকার সবার। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই সরাই বেঁচে থাকে, যা উদ্দীপকের চিত্রে প্রকাশ পেয়েছে।
নিন্দুক ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছিল।
নিয়ম-কানুন না জানার কারণে রাজার মতে পাখিটা মূর্খ ছিল।
রাজার মতে পাখিটা ছিল মূর্খ। কারণ সে গান গাইতে পারত, কিন্তু শাস্ত্র পড়ত না। লাফালাফি করত, উড়ে বেড়াত, কিন্তু কায়দা-কানুন কিছুই জানত না। রাজা মনে করেছিল লেখাপড়া না জানার কারণে পাখিটা ছিল মূর্খ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
